নেত্রকোনা-১ আসনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন কাজী আশফিক রাসেল

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস নির্মূল ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি সহ শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ় প্রত্যয়

নেত্রকোনা প্রতিনিধি


নেত্রদর্পণ সম্পাদক কাজী আশফিক রাসেল বলেছেন, নেত্রকোনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় ইনসাফ। দুর্গাপুর-কলমাকান্দাবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অনেকেই ইনসাফের কথা বলেন। আমি মনে করি, নেত্রকোনা-১ আসনে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ধানের শীষে ভোট দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় ইনসাফ।”

kazi ashfiq russell netrokona 2 election
  • ছবি-সংগৃহীত

গতকাল ‘আমার ভাবনায় দুর্গাপুর’ শীর্ষক ইভেন্টে অংশ নিয়ে ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি আমার জীবনের প্রথম ভোট জননেতা “ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে” ধানের শীষ প্রতীকে দেবো, কারণ তিনি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। গত দেড় দশকে দেশের দুঃসময়ে তিনি রাজনীতির মাঠে যেমন সরব ছিলেন, তেমনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও জনআকাঙ্ক্ষার লক্ষ্যভেদ করেছে।”

কাজী আশফিক রাসেল বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুরবাসীর অনেকে ভাবছেন, কাকে ভোট দিলে বেশি উন্নয়ন হবে; ব্রিজ, কালভার্ট, নতুন নতুন রাস্তা হবে। আবার কেউ ভাবছেন, কাকে ভোট দিলে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূল হবে। তবে তাঁর দুর্গাপুর ভাবনা কিছুটা ভিন্ন।

তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেড় দশক ধরে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে সেই উন্নয়নকে তাসবিহ বানিয়ে কিভাবে বাংলাদেশকে একটি জ্বলন্ত শ্মশানে পরিণত করেছিলেন। তাই আমি মনে করি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের মেরুদণ্ড শক্ত করা। আর শিক্ষাই হলো জাতির সেই মেরুদণ্ড।”


দুর্গাপুরের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করে একদল শিক্ষক নামধারী কুলাঙ্গার নিয়োগ-বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁস, নকল সরবরাহ ও কিশোর গ্যাং প্রতিপালনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। ছাত্ররাজনীতির নামে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি চালু করে এলাকায় শিক্ষার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিগত দিনগুলোতে ভয়ংকর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ভিন্নমত দমন করা হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, মুখোশধারী কিছু রাজনীতিবিদ এসব অপশক্তিকে ছত্রছায়া ও গোপন সুরক্ষা দিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও জানান, “আপনারা অনেকে জানেন, চেনেন, আমি বিগত৭-৮ বছর যাবত একজন সমাজসচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার অস্তিত্বের শেখড়, প্রাণের দুর্গাপুরের অনেক অনিয়ম-অরাজকতা নিয়ে দেশের প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিকে একাধিক কলাম লিখেছি। কোনো স্বার্থ ছাড়াই লিখেছি। আশা রাখি এই গঠনমূলক সমালোচনা আমি আজীবন চালু রাখবো। ইনশাল্লাহ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যদি আমার বাপও হয় তিনি আমার বাপ না, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যদি আমার গর্ভধারিনী মা হলেও তিনি আমার মা না।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন,”বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি চাই আমাদের দুর্গাপুরে এমন একজন জনপ্রতিনিধি। যিনি দুর্নীতি ও নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সিপাহশালা হিসেবে ভূমিকা রাখবে। যিনি অন্যায় ও অনিয়মের প্রশ্নে জালিমের সাথে কখনোই আপোষ করবেন না।”

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি তাঁর একটি বক্তব্য আমার সামনে এসেছে। সেখানে তিনি বলেছেন, দুর্গাপুর একটি বাগান এবং তিনি সেই বাগানের মালি হতে চান। তাঁর এই বক্তব্য আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আমরা দুর্গাপুরকে একটি বাগান হিসেবেই দেখতে চাই। নানা রুপ, নানা ফুল, নানা গন্ধ মিলিয়ে হয় যেমন হয় বাগান, ঠিক তেমনি নানা মত, নানা পথ,নানা ধর্ম, নানা বর্ণ, নানা সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস নিয়ে পারস্পারিক সহবস্থানই মানবসভ্যতার মূল কথা।”

তিনি আরও বলেন, “মতভিন্নতার কারণে অতীতে আমরা অনেক জুলুমের শিকার হয়েছি। আমরা আর এমন জুলুম দেখতে চাই না। আমরা শত্রুর সাথেও ইনসাফ চাই। দুর্গাপুর বাগানের ভবিষ্যৎ মালির কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, এই বাগানে যেন শুধুমাত্র মতভিন্নতার কারণে একটি ফুলেরও ক্ষতি না হয়, ফুলেরঠোকাও যেন দেওয়া না হয়। তবে যারা অন্যায়কারী, তাদের সঙ্গে যেন কখনো আপোষ না করা হয়।”


সবশেষে কাজী আশফিক রাসেল দুর্গাপুর-কলমাকান্দাবাসীকে দেশের ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জননেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।