ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত সশস্ত্রবাহিনী
  • ভোটারদের আস্থা ফেরাতে সারা দেশে লক্ষাধিক সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য মোতায়েন, প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা ও ব্যালট বাক্স সুরক্ষায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী। এ লক্ষ্যে সারা দেশে লক্ষাধিক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মো. মনজুর হোসেন।


রাজবাড়ীর পাংশায় কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগরাজবাড়ীর পাংশায় কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, এলাকায় উদ্বেগ

তিনি জানান, অতীতে নির্বাচনগুলোতে ৪০–৪২ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করতেন। এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০ জানুয়ারি থেকে।

নির্বাচনকে ঘিরে চলমান অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৪ দিনে দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি যশোরের বাহারপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১০টি গ্রেনেড সদৃশ হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। দায়িত্ব পালনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ২২ হাজারের বেশি চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যানবাহনের ঘাটতি থাকলেও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে যানবাহন ভাড়া করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনি কর্মকর্তা ও সরঞ্জাম পরিবহনে সামরিক হেলিকপ্টার ও নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অডিও-ভিডিও ক্যামেরা ও আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। সেনা সদর দফতরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও অপপ্রচারকে বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।


আরও দেখুন:-

বিআইএমএসটেক ও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকবিআইএমএসটেক ও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন