সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সর্বোচ্চ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি নির্বাচন যেমন দেশের যোগ্য নেতৃত্ব ঠিক করে ঠিক তেমনি এটা বুঝা যায় কার হাতে যাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ। ১২ই ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। নতুন প্রজন্মের চোখে নির্বাচন ঠিক কেমন প্রভাব পড়ে তা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন।
- নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়ন করা
নির্বাচনী ইশতেহার মূলত জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের একটি নৈতিক চুক্তি। যা মানুষকে আশ্বস্ত করে তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে, ন্যায়বিচার আর দুর্নীতি নিরসনে কাজ করবে। আর আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে নির্বাচনের অন্যতম দিক হচ্ছে দলগুলোর ইশতেহার বাস্তবায়ন করা। নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলের দেওয়া ইশতেহার দেখে জনগণ তাদের বিজয়ী করে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যদি বিজয়ী রাজনৈতিক দল তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তবে তারা জনগণের আস্থা হারাবে, গণতান্ত্রিক সরকার হারাবে তার কার্যকারিতা। তাই আমরা তরুণ প্রজন্ম চাই নতুন কোন স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা না হোক। গণতান্ত্রিক সরকার মানে শুধু ৫ বছর মেয়াদে সরকার গঠন আর পরিবর্তন হবে না বরং জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা যা নির্বাচনী ইশতেহারকে বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। তরুণ প্রজন্ম যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা তা চিন্তা করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহার দিয়েছে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেনো ইশতেহার কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকুক। সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি আস্থাশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
- ইনসাফ প্রতিষ্ঠা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন যেমন রয়েছে তেমনই ভীতি ও আশঙ্কা কাজ করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণে এই নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি প্রতিহিংসা পরিহার করে সকলের সাংগঠনিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন প্রচারনা করার আহ্বান। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ঝামেলা, ভোট চুরি, কারচুপি করলে তা ওই দলের ব্যর্থতা বলে গণ্য হয় বলে মনে করি। নির্বাচন হবে স্বচ্ছ যেন সাধারণ জনগণ নির্ভীক চিত্তে ভোট দিতে পারে এবং ফলাফল পর্যন্ত সকল কাজে যেন স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এই আশ্বাস রাখতে পারে। সর্বোপরি আমরা চাই একটি ইনসাফের রাষ্ট্র যেখানে ক্ষমতাবলে স্বৈরাচারী মনোভাব পরিহার করে নেতা জনকল্যাণে কাজ করবে। তার সকল রাজনৈতিক কাজের ক্ষেত্রে জবাবদিহি করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। প্রত্যেক সদস্যদের কাজে থাকবে স্বচ্ছতা। ব্যক্তিস্বার্থ , অর্থ পাচার, ব্যক্তিভেদে আইনের বৈষম্যতা পরিহার করে সকল ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করবে এমন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় আশাবাদী আমরা।
- ভোট হোক স্বাধীন, দেশ যাক যোগ্যের হাতে
দেশটা আমাদের, এই মাটিতেই আমাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সম্ভাবনার গল্প লেখা। তাই আমরা চাই বাংলাদেশ হোক নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ একটি দেশ যেখানে প্রতিটি মানুষ বুক ফুলিয়ে রাস্তায় চলতে পারবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস করে কথা বলতে পারবে, আর নিজের অধিকার আদায়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবে। আমরা তরুণ-তরুণীরাই আগামী দিনের চালিকাশক্তি; আমাদের হাতেই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।
তাই আসন্ন নির্বাচন হোক সম্পূর্ণ স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। ভোট যেন হয় উৎসবের মতো, কোনো ভয় বা চাপ ছাড়াই। আমরা চাই নেতৃত্ব আসুক এমন একজন যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষের হাতে, যিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করবেন। রাজনীতি যেন বিভেদ নয়, বরং উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রতীক হয়।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে, আর তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের পথ উন্মুক্ত থাকবে। যোগ্য নেতৃত্বই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে। তাই আমাদের প্রত্যাশা যোগ্য ব্যক্তির হাতেই হোক দেশের নেতৃত্ব, আর গড়ে উঠুক একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
- সমতার রাষ্ট্রই হোক আগামীর প্রত্যাশা
বর্তমান বাংলাদেশে যখন প্রতিদিন নাগরিক নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে বসবাস করছে ঠিক এমন একটি সময় জাতীয় নির্বাচন দেশের যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া হয়ে এসেছে। প্রতিটি ভোট এখানে মুল্যবান। তারুণ্যের একটি ভোট নির্ভর করবে আগামীতে দেশের নেতৃত্ব কে দিবে? দেশের আগামী পাঁচ বছরের দায়িত্ব এমন একটি ব্যক্তি বা সরকারের অধীনে আসুক যারা ব্যাক্তি স্বার্থের ঊর্ধে দেশের সামগ্রিক ও দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ লাভের জন্য কাজ করে যাবে। ধর্ম বর্ণ নারী পুরুষ কোন বিভাজন নয় বরং সাম্যের ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ার চেষ্টা করবে। দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে যাতে পরনির্ভরশীল না হতে হয়। স্বাধীনতার পূর্বে এবং স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্র এবং পশ্চিমা আধিপত্যবাদের অধীনে আমাদের দেশের অনেক মেধাশ্রম ও সম্পদ নষ্ট হয়েছে। শুধু ভূখণ্ডে নয় বরং কোন দেশের উপর নির্ভরশীল না হয়ে আমাদের স্বনির্ভর স্বাধীনতা ও সক্ষমতার উপর বিশ্বাস রেখে বাংলাদেশ পন্থী রাজনীতি করবে এমন একটি সরকার এই মুহূর্তে দরকার।
সর্বোপরি দ্রব্যমূল্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বেকারত্ব দূরীকরণ এর জন্য যারা কাজ করবে তারাই ভোটে অগ্রাধিকার পাবে। এবং শুধু নির্বাচনে নয় আগামীতেও তরুণরা তাদের সাথে নতুন বাংলাদেশ গড়ায় কাজ করবে।
আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ
অনলাইনে প্রচারে বাধা নেই, আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস