power-transfer-countdown-new-government.jpg

গেজেট প্রকাশের পরই শপথ আয়োজন; একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথও হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক


যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর বিষয়ে সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলো—প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার এমপিদের শপথ হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিতে পারেন।

নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট শুক্রবার রাত বা শনিবারের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। গেজেট প্রকাশের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে আরও তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। নির্ধারিত ব্যক্তি ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব বিদায়ী স্পিকারের। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে আসেননি। অন্যদিকে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন। ফলে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ আয়োজন নিয়ে বাস্তব জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সিইসির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিকল্পটিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। এর মধ্যে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুটি আসনের ফলাফল উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে স্থগিত রয়েছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের অন্যান্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ফলাফল বিবরণী পাওয়ার পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। ইসি দেরি করতে চায় না।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদের আওতায় হয়নি—এ নিয়ে শপথ প্রক্রিয়ায় কিছু ব্যাখ্যাগত প্রশ্ন রয়েছে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই শপথ ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে: সিইসি

ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গ: যা বলল তারা