আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের বাঙালি আখ্যা দেওয়ায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করতেই ‘বাঙালি’ তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০১৬–১৭ সালের জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধতা দিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশ জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী, যাদের শতাব্দীপ্রাচীন উপস্থিতির অকাট্য ঐতিহাসিক প্রমাণ রাখাইন রাজ্যে বিদ্যমান। তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়ন মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অংশ ছিল এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে। ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেও তারা বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশ মিয়ানমারের ‘১৯৭১ সালে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল” এ দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়েছে।