দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির

ভোটকে আমানত উল্লেখ করে খেয়ানতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ বিদ্যালয় মাঠে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি বক্তৃতায় বলেন, “সবার ঈমানি দায়িত্ব দাঁড়িপাল্লাকে জয়ী করানো, যাতে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন এবং কিয়ামতের দিন এর জবাব দেয়া যায়।”

শাহরিয়ার কবির বলেন, “যে ব্যক্তি ভোট পেয়ে দেশের জন্য কাজ করবে না, সে আমানতের খেয়ানতকারী হবে। ভোটকে আমরা আমানত মনে করি, আর দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা গদিতে বসার জন্য নয়, দেশের সেবক হিসেবে কাজ করার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।”

তিনি জামায়াতে ইসলামী আমিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “যদি কোনো জামায়াত প্রার্থী ভোট পাওয়ার পর আমানতের খেয়ানত করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।” একইসঙ্গে তিনি ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দ্বীন কায়েমের কথা যারা বলে, তাদেরকেই ভোট দিতে হবে।”

রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে শাহরিয়ার কবির মন্তব্য করেন, “আগের বিএনপি আর বর্তমান বিএনপি এক নয়। ভবিষ্যতে দেশের ক্ষমতা দুর্নীতি ও চোরাকারবারিদের হাতে দেওয়া হবে না।” পাশাপাশি ভোট চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যে কেউ ভোট চুরি করতে চাইলে তাকে প্রতিহত করতে হবে, আর নিজে কখনো ভোট চুরি করা যাবে না।”

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতে মুসলমান পরিচয়ের কারণে ক্রিকেট খেলতে না পারার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। যারা এ বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখে, তাদের ভোট দেওয়া উচিত নয়।”

সভায় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আ স ম সায়েম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিমসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই দিনে জামায়াতের নেতা কর্মীরা ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুব বিভাগের আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।