bnp-landslide-victory-national-election.jpg

সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ইতিহাস করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম, অসম্ভব প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ঐতিহাসিক সমর্থন দিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এর মধ্যে ২১৬ টি আসনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি জোট। বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন ও তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী হয়েছে। দলীয় কার্যক্রমে আধুনিক কৌশল, তরুণ নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনায় নতুনত্ব নির্বাচনী দলটির নিঙ্কুশ বিজয় লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য কাজ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম এবং জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁর দল নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য নতুন পরিকল্পনাগুলো ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে তারেক রহমানের বক্তব্যে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তবে সামনে তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখাও তার নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও উন্নয়ন করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ‘পাহাড় থেকে সমতল’ সবার জন্য ন্যায়-ইনসাফ নিশ্চিত করা, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং দুর্নীতি-দুঃশাসন বন্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয় জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে এককভাবে সরকার গঠনের সমর্থনের মাধ্যমে।

প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে যাওয়া তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার দল বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। কবির ভাষায় বলতে গেলে, শীতের শীষে এসেছে বসন্ত; ফুল ফুটুক, না ফুটুক, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে শুরু হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বসন্তকাল।


গণভোটে পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ ভোট, জিতেছে ‘হ্যাঁ’

ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করলেন প্রধান উপদেষ্টা