জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা। দিশেহারা জাতির জন্য ইতিহাসের শিক্ষা। জাতীয় চেতনা গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা। সংরক্ষণ ও গবেষণার গুরুত্ব। উপস্থিত অতিথি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভবনে নির্মাণাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন শেষে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই শহিদদের রক্ত তাজা থাকতেই এই জাদুঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা গোটা পৃথিবীতে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোথাও আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। তবে জাতি যদি কখনো দিশেহারা হয়, এই জাদুঘরেই সে পথ খুঁজে পাবে।”
মঙ্গলবার বিকেলে জাদুঘরে পৌঁছে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলের চিত্র, অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, শহিদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পত্রিকার কাটিং এবং অডিও-ভিডিও উপকরণ ঘুরে দেখেন। সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। এ সময় আইন, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতিনিধি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির ছাত্রনেতারাও উপস্থিত ছিলেন।