Red flag with hammer and sickle
  • দমনমূলক আইন বাতিল ও মৌলিক অধিকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক


চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্টি সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত পথে এগিয়ে নিতে ‘ব্যবস্থা বদলের নির্বাচনি ইশতেহার’ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এই ১৮ দফার ইশতেহার প্রকাশ করা হয়, যা যুক্তফ্রন্টের ২৯ দফা ‘জনতার সনদ’-এর পরিপূরক এবং সমাজতন্ত্র অভিমুখী কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত। দলটি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে জনগণের নিয়ন্ত্রণহীন একটি দমনমূলক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সব দমনমূলক আইন বাতিল করা হবে, যার মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট অন্যতম। এছাড়া ছয় মাসের মধ্যে সংবিধানে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিচার বিভাগকে নির্বাহী থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা প্রদান এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং লুণ্ঠনকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া পেশিশক্তি ও কালোটাকার প্রভাবমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারকির জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে।’
দলটি মনে করে আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, এটি গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়ার অথবা কর্তৃত্ববাদের দিকে এগোবার সিদ্ধান্তের মঞ্চ হবে।