ফেঞ্চুগঞ্জে এজেন্ট ব্যাংকিং কেলেঙ্কারি । গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। গ্রাহকদের ভোগান্তি ও প্রতিক্রিয়া।ব্যাংক ও প্রশাসনের পদক্ষেপ।
অনলাইন ডেস্ক
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে শাখার এজেন্ট ম্যানেজার পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমানতকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মানিকগঞ্জ (মানিকোনা) বাজারে অবস্থিত ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার রুপন আহমদ গত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি উপজেলার ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে মানিকগঞ্জ বাজারে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা চালু করেন সনজিদ আলী। ওই শাখায় ব্যবস্থাপকসহ একাধিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেন এজেন্ট ম্যানেজার রুপন আহমদ।
অভিযোগ রয়েছে, সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে রুপন গ্রাহকদের বিভিন্ন হিসাব থেকে টাকা ট্রান্সফার করতে শুরু করেন। গ্রাহকরা বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কারিগরি ত্রুটি কিংবা অফিসিয়াল মেসেজের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি থেকে রুপন আহমদ সম্পূর্ণরূপে লাপাত্তা হয়ে যান। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
সুলতানপুর গ্রামের এক গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
‘আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। ধাপে ধাপে সেই টাকা ট্রান্সফার করে নেয় রুপন। বিষয়টি শাখা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ।’
আরও কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন,
‘আমাদের সবমিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই।’
এ বিষয়ে ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবজাল হোসাইন বলেন,
‘গ্রাহকদের কাছ থেকে শুনেছি, এজেন্ট ম্যানেজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। বিষয়টির সত্যতা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকরা দ্রুত টাকা উদ্ধারে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।