মো. মনিরুল ইসলাম
নির্বাচন একটি দেশের স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি। জনগণের অধিকার ও মতামত প্রকাশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মূল প্রতিচ্ছবিই হলো মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের অধিকার আদায় ও জনগণমূখী নয় তথা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন বেগবান হয়েছে। বাংলাদেশেও ‘৭১ ৯০ কিংবা ‘২৪ সবগুলো আন্দোলনই ছিল জনগণমূখী একটি নির্বাচন এবং বিভিন্ন অধিকার দাবী আদায়কে কেন্দ্র করে।
আমরা দেখেছি ‘৭১ এর চেতনাকে কবর রচনা করে দীর্ঘ ১৫টি বছরে কোন নির্বাচন হতে দেয়নি স্বৈরাচার হাসিনা সরকার। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অন্যতম মাইল ফলক ছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা শক্তি। যুগে যুগে জনগণের হাতে পরাজিত হয়েছে হায়নার মতো অপশিক্তি।
তাই আপামর বাংলাদেশের চেতনা ও সুষ্ঠু আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অংশগ্রহণ অতি জরুরি। পাশাপাশি ৫ কোটির বেশি তরুণ প্রজন্ম এবং বাংলাদেশের সকল শ্রেণীর জনতা আগামী দল, নেতৃত্বকে দেখতে চায় জনগণমূখী, নির্বাচনকে দেখেতে চায় আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে। চিরতরে কবর দিতে চায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ট্যাগিং, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি এবং দেশের অর্থ লুটপাটের মতো নিকৃষ্ট অপকর্মকে।
হাসিনা পতনের পরে দেশের অভ্যান্তরিক নানা সমস্যায় নতুন করে জর্জরিত সমগ্র জাতি। শুধু জবরদখল আর অপরাজনীতির চর্চার ফলে। হাসিনা পালানোর পরেও সেই ভয়, মানসিকতা, প্রশাসন, দূর্নীতি, হত্যাকান্ড এবং ভোটের মাঠে উত্তপ্ত অনেকটাই রয়েছে।
তাই জনমুখে আজও প্রশ্ন রয়েছে ভোট কি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে? এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক। দীর্ঘ দিনের নেতিবাচক প্রভাব কাটতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
সরকার ও নির্বাচন কমিশন বলছে এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আমেজপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। এমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ায় জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণাও ছিল বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ন।
বেশ কয়েকটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং বাংলাদেশ সেরা নির্বাচন হবে বলে মনে করেন। কে সরকার গঠন করবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জনগণ কাকে বা কোন দলকে যোগ্য মনে করছেন।
তবে ভয় ও দখলদারিত্বের রাজনীতির কবর রচনা দেখতে চায় এদেশের আপামর জনতা। যার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য হয়েছিল ‘২৪ এর গণঅভূথান।
কিন্তু ছাত্র সমাজের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় থেকে দীর্ঘ দিনে একসাথে পথচলা বিএনপি-জামাতের মধ্যে যে পুরনো রাজনৈতিক ট্যাগিং স্লোগানে তরুণদের আবারও ভীতির জায়গা তৈরি করবে যা নতুন বাংলাদেশের জন্য আশারবানী নয়।
যে যার মতো দল গোছানো, রাজনীতির মাঠ গরম কিংবা জয়ী হওয়ার পথে কেবল সীমাবদ্ধ। আইন বিভাগ,বিচার বিভাগ ও সুশাসন শব্দগুলো খুব কমই শোনা যায়। অথচ দেশের অভ্যান্তরিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে উক্ত তিনটি ডিপার্টমেন্টের ভূমিকা হতে হবে আকাশচুম্বী।
জুলাই আন্দোলনের প্রতিফল হিসেবে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নাই। কেন না ভোট একটি দেশের অক্সিজেন হিসেবে জনগণের মতামত প্রকাশের ভূমিকা হিসেবে কাজ করে।
নতুন করে দেশের অগ্রযাত্রা ও প্রাসঙ্গিক পরিকল্পনার শুভ উদয়ের প্রত্যাশা কামনা করি। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হোক, একটি জনগণমূখী কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হোক। সবশেষে বলি, স্লোগানে আওয়াজ তুলি “ভোট ফর বাংলাদেশ”।
নির্বাচিত হলে প্রথম দিন ফজর নামাজ পড়েই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবো : জামায়াত আমীর
এবার রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দিল জাতীয় পার্টি
নির্বাচিত হলে প্রথম দিন ফজর নামাজ পড়েই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবো : জামায়াত আমীর
এবার রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দিল জাতীয় পার্টি