tarique rahman law order anti corruption 1

সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান আইনশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে। বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি বলেন, এই দুটি বিষয় ঠিকভাবে সামাল দিতে পারলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান অনেকাংশে হয়ে যাবে।

রাজধানীর গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানও। অনুষ্ঠানে কোনো মঞ্চ বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি; লেকের ওপর কাঠের পাটাতনের পাশে ১২টি চেয়ার বসানো হয়েছিল। বিজয়ীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাদের মতামত জানার সুযোগ পান।

তারেক রহমান বলেন, “প্রথমে একটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, সেটি হলো আইনশৃঙ্খলা। সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারেন, এটা নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতি যেভাবেই হোক, এটাকে ‘অ্যাড্রেস’ করতে হবে। বিভিন্ন রকম দুর্নীতি রয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের অন্য সমস্যাগুলোও অনেকাংশে সমাধান সম্ভব।”

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ঢাকার পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় তিনি জানান, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান”। যদিও সেদিন বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি, তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমাবেশে বিক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছেন ক্ষমতায় গেলে খাল খনন, গাছ রোপণসহ নানা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা।

যানজট সমস্যা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “রাজধানীতে তিন কোটির বেশি মানুষের বাস, যার পেছনে সড়কের নকশা, গণপরিবহন ও সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়া অন্যতম কারণ। এর সমাধানে মনোরেল চালু, আশপাশের জেলাগুলোকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং রাজধানীর মধ্যে ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা জরুরি।”

মেট্রোরেলের ব্যয়বহুল প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে তিনি মনোরেল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন যা সহজে বসানো ও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং যাত্রীদের খরচ কম হবে বলেও উল্লেখ করেন।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লেখাপড়াকে সহজ ও আনন্দমুখর করতে চাই। যখন ইন্টারেস্ট তৈরি করা যাবে, তখন শিশুরা আনন্দ নিয়ে পড়ালেখা করবে।” তিনি আরও জানান, স্কুলে ভূগোলের মতো বিষয়ের নম্বর কমিয়ে খেলাধুলায় ৩০ নম্বর যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী খেলাধুলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাস করার সুযোগ পায়।

তারেক রহমান সরকারের পরিকল্পনায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করে একটি ‘টিম’ আকারে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বামীহারা নারী, সিঙ্গেল মাদার এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় থাকা নারীদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পসমূহ সমন্বিত নয়, যার ফলে কেউ তিনটি সুবিধা পাচ্ছে আবার কেউ একটাও পাচ্ছে না। তাই এটিকে অর্গানাইজ করে সর্বজনীন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের হয়রানি বন্ধ এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধের জন্য শুরু থেকেই শিশুদের সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। এই আলোচনা শেষে তার মেয়ে জাইমা রহমান যোগ করেন, “ডিজিটাল এডুকেশন প্রয়োজন, যাতে ছোটবেলা থেকেই শিশুরা বুঝতে পারে কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল।” তিনি আরও বলেন, বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম বাংলাদেশে আনয়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপির মিডিয়া সেলের ভিডিও থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। বিজয়ী ১০ জনের সঙ্গে সরাসরি আলাপকালে তারেক রহমান দেশ ও জনগণের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশা শোনেন।