জুলাই সহিংসতায় প্রাণহানির মামলায় বিচারিক অগ্রগতি, পরোয়ানা জারি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা পৃথক দুই হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন। পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত তা গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে।
মামলার নথি অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় তার মা রীনা বেগম ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।
অপরদিকে, সিএনজি অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও শেখ হাসিনাসহ একাধিক আসামির নাম রয়েছে। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুজের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে বিচারক সংশ্লিষ্ট পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুটি মামলাতেই অধিকাংশ অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।