ulema-leadership-trust-opinion-analysis.jpg

ইয়াহিয়া কাজল তুহিন


সম্মানিত আলেম সমাজের প্রতি বিনীত কিন্তু স্পষ্ট আহ্বান। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—নেতৃত্ব কোনো আবেগের বিষয় নয়, এটি আমানত। কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের শিক্ষা দেয়, দায়িত্ব দেওয়া হবে যোগ্যতা, সততা ও আমানতদারিতার ভিত্তিতে।


নেত্রকোনা–১ (দূর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনের এই নির্বাচনে আপনাদের ভূমিকা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অঞ্চলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিগত ১৭–১৮ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন, মসজিদ–মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন, এবং নির্বাচিত হওয়ার আগেই একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি কথায় নয়, কাজে নিজের অবস্থান প্রমাণ করেছেন।


অপরদিকে, যিনি বর্তমানে ইসলামী দলের মনোনয়নে দাঁড়িয়েছেন—তিনি দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগী ছিলেন। আন্দোলন–সংগ্রামে তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবৈধ শাসনকে বৈধতা দিয়েছেন। স্বৈরাচার পতনের পর হঠাৎ দল পরিবর্তন করে ইসলামী দলের লেবাস ধারণ করেছেন

—আদর্শের কারণে নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতির ধারাবাহিকতায়।
সম্মানিত আলেম সমাজের কাছে প্রশ্ন—


শুধু একটি ইসলামী দলের মনোনয়ন পাওয়াই কি কাউকে ইসলামী নেতৃত্বের যোগ্য করে তোলে?
দীর্ঘদিন অন্যায়ের পাশে থাকা একজন ব্যক্তি হঠাৎ লেবাস বদলালেই কি তার অতীত মুছে যায়?
ইসলাম আমাদের বলে—


“যোগ্যতা ছাড়া দায়িত্ব দেওয়া কেয়ামতের দিন লজ্জা ও অনুতাপের কারণ হবে।”
(সহিহ হাদিসের মর্মার্থ)


আজ যদি আদর্শ, আমানত ও জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল দলীয় পরিচয়ের কারণে সমর্থন দেওয়া হয়, তবে সেটি কি ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো হবে, নাকি জনগণের সঙ্গে অন্যায়?

দূর্গাপুর–কলমাকান্দার মানুষ আজ একজন পরীক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। আলেম সমাজের দায়িত্ব হলো সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে জনগণকে সঠিক পথ দেখানো—সুবিধাবাদী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।

লেখকঃ ইয়াহিয়া কাজল তুহিন, সহ-প্রচার সম্পাদক, জিয়া সাইবার ফোর্স, জেডসিএফ।


শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের পবিত্র দায়িত্ব বলে বক্তব্য দিচ্ছেন তারেক রহমানশহীদদের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের পবিত্র দায়িত্ব: তারেক রহমান