নিহতদের স্বজনদের আহাজারি : নওগাঁ | ছবি : সংগৃহিতনিহতদের স্বজনদের আহাজারি : নওগাঁ | ছবি : সংগৃহিত

টেকনাফে তিন, নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দুই জেলায় পৃথক ঘটনায় এক রাতে মোট সাতজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে তিনজন এবং নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। নৃশংস এই দুই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন মুজিবুর রহমান, নুর বশর ও রবিউল আউয়াল। তারা সবাই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়দের মতে, ওই পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

পুলিশ জানায়, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সোমবার রাতে গরু বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতির পর পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই রাতে দেশের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।