>>>জামায়াত আমিরের পক্ষে ভোট চাইলেন স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম
মহিলা সমাবেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক
টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক চার্লি ক্যাম্পবেলের নেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একজন পরিমিত, অন্তর্মুখী ও নীতিনির্ভর রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তিনি ইতিহাস পড়া ও দীর্ঘ হাঁটার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন একজন ‘পলিসি ওঙ্ক’ বা নীতিনির্ধারণে মনোযোগী নেতায় পরিণত করতে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী শাসনের পতনের পর তিনি নিজেকে দেখছেন এক সেতুবন্ধন হিসেবে,যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করছেন এবং একই সঙ্গে তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চান।
>>>>শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
টাইম ম্যাগাজিন তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতির ‘প্রত্যাগত রাজপুত্র’ আখ্যা দিয়ে লিখেছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার পর তার দেশে ফেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছালে লাখো সমর্থক তাকে স্বাগত জানান। এর পাঁচ দিনের মাথায় তার মা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে শোকাহত করলেও তিনি এটিকে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব মোকাবিলায় একাধিক বাস্তবধর্মী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, দেশব্যাপী ১২ হাজার মাইল খাল খনন করে সেচ ও পানির স্তর রক্ষা, প্রতিবছর ৫ কোটি গাছ রোপণ, ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিকায়ন।
তিনি বলেন, “আমি যে পরিকল্পনা করেছি তার ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারলে জনগণ আমাকে সমর্থন করবে।”
টাইম-এর প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা দুর্নীতি ও ‘খাম্বা তারেক’ অভিযোগের প্রসঙ্গও এসেছে। তবে তারেক রহমান এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, দীর্ঘ সময়েও সরকার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। জেল ও নির্যাতনের ফলে তার মেরুদণ্ডে স্থায়ী সমস্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা তাকে জনগণের জন্য কাজ করতে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে।
বিদেশনীতি প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতার কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন, ভারতের প্রতি তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, যা সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে গুম, নিপীড়ন ও প্রাণহানির ঘটনার বিচার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় নয়, আইনের শাসনের মাধ্যমেই হবে। খালেদা জিয়ার জানাজায় তার জাতীয় ঐক্যের আহ্বানও প্রতিবেদনে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে স্পাইডার-ম্যান সিনেমার সংলাপ উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন, “বিরাট ক্ষমতার সঙ্গে বিরাট দায়িত্বও আসে।” জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষাকেই তিনি তার প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
টাইম ম্যাগাজিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান এখন কেবল একটি দলের নেতা নন, তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর রূপকার হিসেবে। আসন্ন নির্বাচনই নির্ধারণ করবে, নির্বাসন ফেরত এই নেতা দেশের মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন।