পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ছাড়েননি দুই ছাত্র উপদেষ্টা, উঠছে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন

>>>>রাজপথে লড়াই চাইলে ঘোষণা দিয়ে আসুন, জীবন দিতে প্রস্তুত আছি: মামুনুল হক<<<<

আসিফ মাহমুদ এখানে থেকেই এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা করছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক


গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন উপদেষ্টা পরিষদের দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এসব পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে। পরদিনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

সে হিসাবে পদত্যাগের প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম এখনো সরকারি বাসা ছাড়েননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নীতি ও নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আসিফ মাহমুদ বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি গণমাধ্যমকে দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগে সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় বসবাস করছেন। তবে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ‘নিলয়-৬’-এ দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, তিনি এখনো ওই বাসা ব্যবহার করছেন এবং নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করছেন। আশপাশে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বলেন, সেখানে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লোকজন নিয়ে আসেন।

অন্যদিকে মাহফুজ আলম হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে বসবাস করছেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, নীতিমালায় উপদেষ্টাদের বাসা ছাড়ার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা নেই, তবে নির্বাচনের আগেই তিনি বাসা ছেড়ে দেবেন।

>>>>চা খাওয়ার দাওয়াতকেও হুমকি বানানো হচ্ছে: মির্জা আব্বাস<<<<

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক দুই উপদেষ্টা এখনো সরকারি বাসা ছাড়েননি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসর বা বদলির পর সর্বোচ্চ দুই থেকে ছয় মাস থাকার বিধান থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নীতিমালায় উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর

৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই দিন থেকেই আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দিয়ে পরে উপদেষ্টা হন এবং তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

এ বিষয়ে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, অতীতে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাঁর মতে, পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা না ছাড়ার বিষয়টি নীতি ও নৈতিকতার অবক্ষয়ের উদাহরণ এবং রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে জনগণ আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।


আরও পড়ুন:-

>>>>শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত<<<<

>>>>কলমাকান্দায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের প্রচারণা<<<<

>>>>নেত্রকোনা-১ আসনে ধানের শীষে ভোট দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় ইনসাফ : কাজী আশফিক রাসেল<<<<