লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে একই পরিবারের দুই পক্ষের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলছে আলোচনা
অনলাইন ডেস্ক
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার একটি রাজনৈতিক পরিবারে বিচিত্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ছোট ভাই মাহবুব আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন। এর মধ্যেই বাবার আজিজুর রহমান বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে মাঠে থেকে ভোট চান।
👉 “আরও পড়ুন: বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিস্তারিত:-
>>বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালানোয় মুয়াজ্জিনের চাকরি বাতিলের অভিযোগ, জামায়াতের সম্পৃক্ততা অস্বীকার<<
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকার মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা মাহবুব আলম নির্বাচনে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীক হাতে নিয়েছেন। অন্যদিকে তার বাবা আজিজুর রহমান একই এলাকার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে পথসভা ও প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোটারদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবারে এ ত্রিভুজ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এখনো নিজের অবস্থান সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তার পরিবার ও এলাকার একজন স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষক জানান, ‘এমন পারিবারিক রাজনৈতিক বিভাজন খুব একটা সাধারণ নয়। তবে এ ধরণের ঘটনাও রাজনৈতিক জীবনে বিরল নয়।’
মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি আদর্শের লড়াই। আমার বাবার প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। আমরা সবাই পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ। রাজনীতি আমাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়।’
অপরদিকে আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘রাজনীতি আমার আদর্শ ও অবস্থানের জায়গা। পরিবার আমার ব্যক্তিগত বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে আমি নিজ অবস্থানে আছি। ছেলের জন্য বাবা হিসেবে তার সফলতা ও সুস্থতা কামনা করি।’
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এমন পারিবারিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সাধারণ ভোটারদের মাঝে অনেক প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা তৈরি করছে। শেষ পর্যন্ত কার আদর্শ জয়ী হবে তা নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে প্রমাণিত হবে।’
এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিভক্তি নির্বাচনী মাঠে একটি মনোজ্ঞ অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।