রুমিন ফারহানারুমিন ফারহানা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা তাঁকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রিন্সটন বা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরির এমডি। একই ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। তিনি বলেন, এসব জায়গায় দলীয় ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দল করা দোষ নয়, তবে দল না করলে নিয়োগ না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েই চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগে ও পরে এ বিষয়ে কথা বলেছে। বিএনপি তাদের ভিশন-২০৩০ ও ৩১ দফায় এ সম্পর্কিত প্রস্তাব দিয়েছে। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে ভাষণ দিতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এবারও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণই দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতটুকু স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া যায়নি-তাহলে কোন ভারসাম্যের কথা আমরা বলছি।’

রুমিন ফারহানা বলেন, হাজার মানুষের আত্মত্যাগের ভিত্তিতে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এসব মানুষ সাধারণ জনগণ, যারা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তারা নতুন রাজনীতি ও নতুন চিন্তার প্রত্যাশা করেছিলেন এবং বৈষম্যহীন একটি দেশের কথা ভেবেছিলেন। জুলাই আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের সামনের সারিতে নারীরা ছিলেন। নতুন প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণও ছিল। তবে এক বছর না যেতেই সেই নারীদের অনুপস্থিতি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের সংসদে সরাসরি ৭ জন নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আন্দোলনের সময় নারীরা সামনে থাকলেও স্বাভাবিক সময়ে তারা উপেক্ষিত হন। তিনি বলেন, ‘নারীর পোশাক, নারীর চেহারা, নারীর কথা, নারীর হাসি-সব কিছু তখন হাসির খোরাকে পরিণত হয়।’ তিনি বলেন, ৫২ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।


More news:
ইরানের ১০ দফা শর্তে শান্তি প্রস্তাবের পথে ট্রাম্প
আজ রাতে গোটা একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে : ইরানকে ট্রাম্পের নতুন
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাছের ট্যাক্সোনমি বিষয়ক সেমিনার