ডিএনএ বারকোডিংসহ আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে দিকনির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ “মাছ সনাক্তকরণ থেকে স্টক মূল্যায়ন: বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণার আধুনিক ধারা” শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদ এর আয়োজনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ এর কম্পিউটার ল্যাবে সকাল ১০টায় সেমিনারটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ওশানোগ্রাফি বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মুসলেম উদ্দিন। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কিনোট স্পিকার ড. সুবাল কুমার রাওল, যিনি ভারতের সেন্ট্রাল মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইন্সটিটিউট (সিএমএফআরআই), দিঘা রিসার্চ স্টেশনের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও সায়েন্টিফিক ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. মো: আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফিশারিজ রিসোর্সেস কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. দেবাশীষ পন্ডিত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ওশানোগ্রাফি বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর রীমু দাস।
সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক মাছের প্রজাতি সনাক্তকরণ, শ্রেণিবিন্যাস এবং আধুনিক গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা প্রদান। বক্তারা মাছের ট্যাক্সোনমির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সঠিক প্রজাতি শনাক্তকরণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই আহরণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় ঐতিহ্যগত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ডিএনএ বারকোডিং, মলিকুলার ট্যাক্সোনমি এবং ডিজিটাল ইমেজ অ্যানালাইসিস ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখতে একই রকম বিভিন্ন প্রজাতিকে সহজে পৃথক করা সম্ভব হচ্ছে, যা গবেষণাকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করছে।
সেমিনারের প্রাকটিকাল সেশনে ড. সুবাল কুমার রাওল শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন মাছের প্রজাতি চিহ্নিতকরণ ও শ্রেনিবিন্যাস করানো শেখান।
অন্যদিকে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মুসলেম উদ্দিন একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে গবেষণায় উৎসাহিত করেন।
সেমিনারে ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী—জাকিয়া সুলতানা, রীমু দাস, ড. সাদিয়া সালাম, ড. জেসমিন আরা, ফাতেমা জাহান, বাসির আহাম্মেদ, মো: আসাদুর রহমান, ভাস্কর চন্দ্র মজুমদার, মো: হাবিবুর রহমান, মো: জাহিদ হোসেইন এবং সৌমিক মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, রিজওয়ান মিরাজ, ইশমাম বিনতে ওয়াহিদ সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের জিজ্ঞাসার উত্তর লাভ করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে এখনও অনেক অজানা ও কম পরিচিত মাছের প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে আরও গবেষণা পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উৎসাহিত করা হয়।
সেমিনারের আলোচনার এক পর্যায়ে ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষক মো: আসাদুর রহমান, ড. সুবাল কুমার রাওলকে অনুরোধ জানান, যেন সম্ভব হলে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত অনুষদের শিক্ষার্থীদের তার চলমান গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। জবাবে ড. সুবাল কুমার রাওল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস প্রদান করেন।
সার্বিকভাবে, এই সেমিনারটি মাছের ট্যাক্সোনমি বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি, গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন এবং বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
More News
মতামত
ঘুনে ধরা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া : বাংলাদেশের পচন যেখান থেকে শুরু
‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামেই থাকছে চারুকলার বর্ষবরণের আয়োজন
গণভোটের পক্ষে ফেসবুক পোস্ট, এক ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
