প্রবন্ধ বিভাগে দ্বিতীয় হয়ে বৃত্তান্ত প্রতিযোগিতায় পুরস্কার গ্রহণ করছেন মোফাজ্জল হোসেন

সাহিত্য অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমার দেশ ‘পাঠকমেলা’ আয়োজিত সৃজনশীল “বৃত্তান্ত” প্রতিযোগিতায় প্রবন্ধ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোফাজ্জল হোসেন।


গত ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ সভাগৃহে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।


সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী মোফাজ্জল হোসেন বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত। তরুণ এই লেখকের সৃজনশীল সাফল্য ইতোমধ্যেই পাঠক ও সাহিত্যাঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমার দেশ পত্রিকার একুশে পদকপ্রাপ্ত মজলুম সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সংস্কৃত বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সভাপতি ও প্রধান অতিথির হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেন মোফাজ্জল হোসেন।


এ বছর প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল “৭৪’–এর দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপট ও তৎকালীন সরকারের ভূমিকা”। প্রতিযোগিতাটি তিনটি ক্যাটাগরিতে—প্রবন্ধ, ছোটগল্প ও কবিতা—আয়োজিত হয়। প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০ জন করে মোট ৩০ জনকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।


অনুষ্ঠানটি কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর হামদ ও কবিতা আবৃত্তির পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন আমার দেশ ‘পাঠকমেলা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন ইউনুস। তিনি ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন এবং মুসলিম সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম অপু, অধ্যাপক কামরুল হাসান এবং আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ।


প্রধান অতিথি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার বক্তব্যে আধিপত্যবাদী শক্তির ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, “রাজনীতির লড়াইয়ে জিততে হলে আগে সংস্কৃতির লড়াইয়ে জিততে হবে।”


পুরস্কার গ্রহণ শেষে প্রবন্ধ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোফাজ্জল হোসেন বলেন,
“এই আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এমন উদ্যোগ আমাকে অজানা ও আড়ালে থাকা সত্য ইতিহাস জানার পাশাপাশি লেখার মাধ্যমে তা তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করেছে। এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।”


উল্লেখ্য, সৃজনশীল ‘বৃত্তান্ত’ প্রতিযোগিতাটি গত বছরের ১০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬ দিনব্যাপী লেখা আহ্বানের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লেখা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।