মোফাজ্জল হোসেন
ধোঁয়াশায় জমেছে আমার ঈদ আনন্দ
মুসলিমদের আনন্দের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম ঈদের দিন। এই দিনের আনন্দগুলো পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করার জন্যে দূর-দূরান্তে থাকা মানুষগুলো যাতায়াতের সকল ভোগান্তি উপেক্ষা করে ছুটে আসে আপন ঠিকানায়। কেহ ছুটে আসে তার শখের নারীর টানে, আবার কেহ বাড়ির টানে। আমিও প্রথমে আসতে চাইনি, তবে ছুটে এসেছি মায়ের ভালোবাসার টানে।
জীবনে কাটানো প্রতিটি সময়েই জমা হয় একেকটি স্মৃতির মূহুর্ত। এই যে ধোঁয়াশা কাটিয়ে আমার বাড়িতে আসা, আবার ঈদ শপিংয়ে আমার আগ্রহ না থাকায়, ঈদের চাঁদরাতে মা’য়ের জোর করে মার্কেটে নিয়ে গিয়ে শপিং করিয়ে দেওয়ার প্রতিটি মূহুর্ত স্মৃতিপটে অমলিন থাকবে।
শহরের তুলনায় গ্রামের ঈদ আনন্দে, আমেজ- উচ্ছ্বাসে থাকে ভিন্নতা। সন্ধ্যায় নামাজপর ছোটদের ঈদ আনন্দ মিছিলে উল্লসিত গ্রামের অলি-গলি। আবার এশার নামাজপর তরুণ-তরুণী থেকে ছোটদের মাঝে মেহেদীর রঙে বিভিন্ন নকশায় হাত রাঙানোর মহোৎসব দেখতে পেয়েছি গ্রাম্য বাড়িতে বাড়িতে। শুধু তাই নয়, সারারাত ছোটদের পটকাবাজীর আওয়াজ, আর গ্রাম্য মায়েদের রান্নার সরঞ্জাম গোছানোর আয়োজন ঈদ আনন্দকে আরো সমৃদ্ধ করেছিলো। ঈদের দিনের ফজর নামাজ পর পুরো গ্রামের মানুষ একত্রিত হয় কবরস্থানে, মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফিরাত কামনায়। এটা আমাদের গ্রামের প্রাচীনতম প্রথা, যা শুধু দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই একত্রিত হয় আমাদের পুরো গ্রামের মানুষ।
ছোটবেলার ঈদ আনন্দের স্মৃতি কাটিয়ে বড় হওয়ার পর ঈদের নামাজেই আনন্দ খুঁজে পায়। মাঠে নামাজের কথা থাকলে রহমের বৃষ্টি বর্ষনের সুবাদে মহল্লার মসজিদে নামাজ আদায়ের পর একে-অপরের সাথে কোলাকুলি’র মধ্য দিয়ে কুশল বিনিময় হয়। এবং চাচা ও চাচাতো ভাইদের সাথে ঈদের স্মৃতি হিসেবে সকলের যৌথ ছবি ক্যামেরা বন্দি করে, রেখেছি তাদের সাথে কাটানো ঈদ আনন্দ মূহুর্তগুলো স্মৃতিপটে। ঈদ ছুটি শেষে আবার আমাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও, এই মুহুর্তগুলো জমে থাকবে স্মৃতির পাতায়।
মোফাজ্জল হোসেন
শিক্ষার্থী, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
বড় হওয়ার আনন্দ ও সেলামি দেওয়ার নতুন অভিজ্ঞতা
শৈশব থেকে ঈদ মানেই ছিল বড়দের কদমবুসি করে সেলামি আদায়ের এক মধুর প্রতিযোগিতা। পকেটে নতুন নোটের টাকা সেলামি পাওয়ার আনন্দেই কেটেছে গত ঈদগুলো। কিন্তু এবারের ঈদ আমার জন্য ছিল একদমই আলাদা এবং বিশেষ।
এতদিন যারা আমাকে সেলামি দিয়ে আশীর্বাদ করতেন এবার প্রথমবার নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাঁদের জন্য কিছু উপহার কেনার সুযোগ হয়েছে। বাবা-মায়ের জন্য প্রিয় পোশাক আর ছোট ভাই পাশাপাশি বন্ধু বান্ধবদের হাতে ঈদের উপহার তুলে দেওয়ার সময় তাঁদের চোখে যে গর্ব এবং তৃপ্তি দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আর ফেসবুকে ছোট ভাই-বোনদের আবদার মেটানোয় ছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ছোটদের হাতে যখন সেলামি দিচ্ছিলাম তখন তাদের উজ্জ্বল হাসি আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল নিজের হারানো শৈশবে।
অন্যান্য বার ঈদ কাটে পাওয়ার আনন্দে কিন্তু এবার কাটল দেওয়ার অতৃপ্ত তৃপ্তিতে। পকেট থেকে টাকা কমলেও মনের প্রশান্তি ছিল বহুগুণ। এই পরিবর্তন আমাকে বুঝিয়ে দিল বড় হওয়া মানে কেবল বয়স বৃদ্ধি নয় বরং প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব নেওয়া। এবারের ঈদ তাই আমার কাছে কেবল একটি উৎসব নয় বরং ভালোবাসা ও ত্যাগের এক নতুন অধ্যায়।
মায়িশা ফাহমিদা ইসলাম
শিক্ষার্থী, জনগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বৃষ্টিভেজা ঈদের স্মৃতি
ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলনের এক অনন্য উৎসব। কিন্তু কিছু ঈদ স্মৃতির পাতায় বিশেষভাবে জায়গা করে নেয়। তেমনই এক স্মৃতি হলো এই বৃষ্টিভেজা ঈদ।
সকালে ঘুম ভাঙতেই জানালার কাঁচে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ। আকাশটা মেঘলা, সূর্যের দেখা নেই। ঈদের দিন এমন আবহাওয়া একদিকে মন খারাপ, আবার অন্যদিকে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চও কাজ করছিল। নতুন জামা পরে বাইরে বের হওয়ার যে পরিকল্পনা, তা যেন কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল। তবুও ঈদের আনন্দ কি আর বৃষ্টিতে থেমে থাকে?
বাড়ির ভেতরেই শুরু হলো ঈদের প্রস্তুতি। মায়ের রান্না সেমাই আর নানা রকম মিষ্টির গন্ধে ঘর ভরে উঠছে। বাবা ছাতা হাতে প্রস্তুত হচ্ছেন ঈদের নামাজে যাওয়ার জন্য। আমরাও দুই ভাই নতুন পোশাক পরে অপেক্ষা করছি কখন বৃষ্টি একটু থামবে, আর আমরা বের হবো। অবশেষে হালকা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছাতা মাথায় ও কাঁদে তোয়ালে দিয়ে রওনা দিলাম ঈদগাহের পথে।
পথটা ছিল ভেজা, কাদায় ভরা। পায়ে হেঁটে যেতে গিয়ে বারবার পিছলে যাওয়ার ভয়, কিন্তু সবার মুখে ছিল হাসি। গ্রামের মেঠোপথে ছেলেমেয়েদের দৌড়ঝাঁপ, কেউ ছাতা নিয়ে, কেউ আবার বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভিজতেই আনন্দ পাচ্ছে। ঈদগাহে পৌঁছে দেখা গেল, বৃষ্টির মাঝেই মানুষের ঢল নেমেছে। সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করা যেন এক ভিন্নরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
নামাজ শেষে শুরু হলো কোলাকুলি আর শুভেচ্ছা বিনিময়। ভেজা কাপড়, কাদামাখা পা—কিছুই যেন আনন্দে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং বৃষ্টির এই ছোঁয়া যেন ঈদের আনন্দকে আরও গভীর করে তুলেছিল।
সেই দিনের সবচেয়ে আনন্দের অংশ ছিল বিকেলের সময়টা। বৃষ্টি কিছুটা কমতেই আমরা বন্ধুরা বেরিয়ে পড়লাম। কাদায় পা ডুবিয়ে হাঁটা, বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়া সবকিছুতেই ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ। কারও নতুন জামা ময়লা হয়ে গেছে, কেউ পড়ে গিয়ে ভিজে একাকার তবুও হাসির রোল থামেনি এক মুহূর্তের জন্য।
জীবনের ব্যস্ততায় বদলেছে সময়। শহরের কংক্রিটের ভিড়ে মেঠোপথ বৃষ্টিভেজা ঈদের দিনগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন ঈদ আসে, আবার চলেও যায় কিন্তু সেই সরল আনন্দ, হৃদয়ছোঁয়া অনুভূতি যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।
তবুও যখনই বৃষ্টি নামে ঈদের দিনে, মনটা হঠাৎ করেই ফিরে যায় সেই পুরনো দিনে। মনে হয়, আবার যদি একবার সেই শৈশবের বৃষ্টিভেজা ঈদে ফিরে যেতে পারতাম! যেখানে সামান্য বৃষ্টিও আনন্দের কারণ হয়ে উঠত, আর ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই হয়ে উঠত জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ।
বৃষ্টিভেজা এই ঈদ শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয় এটি আমার জীবনের এক অমূল্য অনুভূতি, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর হয়ে উঠছে।
ইমরান হাসান
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
ঈদ মানে স্মৃতির ভাঁজে লুকানো শৈশবের নিঃশব্দ গল্প
ঈদ আমার কাছে আনন্দ, স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও ভালোবাসার মেলবন্ধন। দায়িত্ব ও কর্মব্যস্ততার ভিড়ে শৈশবের সেই নির্ভেজাল আনন্দ আজ কেবলই মধুর স্মৃতিচারণ। তবুও শহুরে জীবনের ক্লান্ত গতি ছাপিয়ে আমার ঈদ এখনো এক টুকরো আপনালয়ের গল্প। ঈদের আগের দিন থেকেই মায়ের সঙ্গে রান্নার প্রস্তুতিতে হেঁশেল ভরে ওঠে মশলার গন্ধে। চাঁদ রাতে কচিকাঁচাদের হাতে মেহেদী পরিয়ে দেয়ার আনন্দক্ষণ। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় ও প্রাণবন্ত আড্ডা । ঈদের ভোরে ঘুম ভেঙে যায় এক অন্যরকম উত্তেজনায়। ঘরের প্রতিটি কোণ যেন উৎসবের ছোঁয়ায় জেগে উঠে। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা মিষ্টিমুখ করে নামাজে যান, অপরদিকে শুরু হয় অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা। ছোটদের সালামি দেওয়া আর বড়দের কাছ থেকে সালামি নেয়ার ঐতিহ্য—বাড়তি আনন্দে যুক্ত হলো দূর থেকে বিকাশে পাওয়া সালামি। সব মিলিয়ে এক অপার্থিব আনন্দের আবেশ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। তবুও এই আনন্দের অন্তরালে কোথাও এক টান অনুভব করি, গ্রামীণ শেঁকড়ের সেই সহজ-সরল ঈদ। দাদা-দাদির অনুপস্থিতি হৃদয়ে অদৃশ্য শূন্যতা রেখে গেছে। মনে পড়ে শৈশবের সেই দিনগুলো, নতুন জামার আবদার, চাঁদ রাতে আতশবাজির ঝলক, নিজের বানানো ঈদ কার্ড বিতরণ কিংবা ঈদের মেলা থেকে নতুন খেলনা কেনার উচ্ছ্বাস। শহুরে ব্যস্ততার মাঝেও ঈদ আমাকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের রঙিন প্রচ্ছদে, যেখানে বড় হয়ে ওঠার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে ছোটবেলার অমলিন অধ্যায়।
তানজিনা আক্তার চৈতি
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ
স্মৃতির পাতায় সোনালি ঈদের দিনগুলো
ঈদ মানেই আনন্দ আর খুশির বার্তা। সময়ের পরিবর্তনে ঈদের উদযাপনের ধরন বদলালেও শৈশবের সেই নির্মল আনন্দ আজও হৃদয়ে অমলিন। রমজানের সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর ঈদ আসে এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে। আকাশে নতুন চাঁদ উঠার সঙ্গে সঙ্গে মনে জাগে এক অন্যরকম আনন্দ।
ছোটবেলায় ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা ছিল অসাধারণ রোমাঞ্চকর। বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে চাঁদ দেখা, পাড়ায় মাইকে গান বাজা, মেয়েদের মেহেদী পরার উৎসব- সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হতো। ঈদের দিন ভোরে নতুন জামা পরে নামাজে যাওয়া, বড়দের সালাম করে সেলামি নেওয়া, এসব স্মৃতি আজও ভীষণ প্রিয়।
ঈদের আনন্দ মানেই ছিল বন্ধুদের সাথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেমাই খাওয়া, আড্ডা দেওয়া, আর পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করা। মায়ের হাতের রান্না যেন এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ।
আজকের ব্যস্ত জীবনে সেই সরল আনন্দ কমে গেলেও, আমার ঈদের স্মৃতিগুলো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে। ঈদ আমাদের শেখায় ভালোবাসা, সাম্য ও মানবিকতার মূল্য।
মোঃ মিল্লাত
শিক্ষার্থী, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
মনের আঙিনায় ঈদের আলো
ঈদ মানেই সুখ, আনন্দ, ভালোবাসার স্নিগ্ধ সকাল৷ ঈদ মানেই বাড়ি ফেরার সেই অবিরাম তারা, মায়ের হাতে পায়েস, সেমাই, আর পছন্দের খাবার খাওয়া, সাথে প্রিয় কিছু মুখ দেখতে পাওয়া৷ ঈদ শুধু একটি উৎসব-ই নয়, এটি গোটা মুসলিম জাতির এক মিলন সমাহার৷ ঈদ আমাদের শেখায় আনন্দ ভাগাভাগি করতে, দুঃখী মানুষদের পাশে দাড়াতে এবং ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে। এই দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে মন খুলে হাসিমাখা কথাবার্তা, যা সম্পর্ক গুলোকে আরো শক্ত করে।
নতুন জামা গায়ে দিয়ে ছোট ছোট পোলাপানরা গ্রামের এদিক সেদিক ছুটে বেড়ায়, মা-জেঠিরা রান্নায় ব্যস্ত হয়ে যায়, আর ভীষণ মজার মজার রান্না করে, বাপ-চাচাদের থেকে সালামি পেয়ে আমার খুশি বেড়ে যায় দ্বিগুণ।
আমি এই দিনটিতে ফিরে যাই আমার শৈশবে, সময়ের সাথে সাথে সব কিছু পরিবর্তন হলেও ঈদের আনন্দ থেকে যায় মনের এক গহীনে৷ চাঁদ রাত থেকেই এক উত্তেজনা বিরাজ করে মনের মধ্যে, চারদিক যেনো খুশিতে ভরে ওঠে, চাঁদ দেখার জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি, এই দিনটির জন্য দীর্ঘ একটি বছর অপেক্ষা করে থাকতে হয়, আমাদের গোটা মুসলিম জাতিকে৷
সবশেষে বলা যায়, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি এক অনুভূতির নাম। ঈদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট আনন্দে, প্রিয়জনদের হাসিতে, তাই ঈদ আসুক বারবার, হৃদয়ে নিয়ে আসুক প্রশান্তি, এবং সুখ আর অগণিত সুন্দর কিছু স্মৃতি৷
মারিয়া আক্তার
শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
ঈদের মধুর স্মৃতি যেন এখন নয়, শৈশবেই ছিলো
ঈদ মুসলিম জাতির জন্য পরম আনন্দের ও উৎসবমুখর একটি দিন। এই দিনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষ একত্রিত হয়। ছোটবেলার ঈদ আর এখনকার ঈদের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য।
ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ শুরু হতো চাঁদ রাত থেকেই, তবে এখন আর সেই আনন্দটা খুঁজে পাই না। সন্ধ্যায় ছাদে বসে থাকতাম চাঁদ দেখার জন্য। হঠাৎ কেউ বলে উঠত, চাঁদ দেখা গেছে তখন যে আনন্দ হতো, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। রাতেই নতুন জামা-কাপড় গুছিয়ে রাখতাম। ঈদের দিন ভোরে উঠে গোসল করে নতুন জামা পরার আনন্দ ছিল অন্যরকম। মিষ্টি মুখ করে বাবার সাথে ঈদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে সবার সাথে কোলাকুলি করে বাসায় ফিরতাম। আম্মুর হাতের মজাদার পায়েস, খিচুড়ি, মাংসসহ নানা রকম খাবার, ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিত।
ঈদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল সালামি পাওয়া। ভাই-বোনেরা মিলে কার কাছ থেকে বেশি সালামি নেওয়া যায়, তা নিয়ে চলত ছোট্ট প্রতিযোগিতা। বিকেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হওয়া, হাসি-আড্ডায় কাটানো সময়গুলো এখন শুধুই স্মৃতি।
এখন আর আগের মতো সেই আনন্দ অনুভব হয় না। বড় হয়ে গিয়েছি, দায়িত্বও বেড়েছে। আসলে ঈদের প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে আছে ছোটবেলাতেই। তাই এখন ঈদের স্মৃতিগুলো মনে পড়লে বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই শৈশবে কাটানো ঈদের সুন্দর দিনগুলোতে।
সাজিদুল হক সাদিক
শিক্ষার্থী, খাজা ইউনুস আলী ইউনিভার্সিটি
More News:
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মানববন্ধন
স্বপ্নপূরণে বগুড়াবাসী: সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন
বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে
