তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক সময় তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির প্রধান ছিলেন। ফাইল ছবি: এপিতুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক সময় তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির প্রধান ছিলেন। ফাইল ছবি: এপি

গোয়েন্দা কূটনীতিতে সক্রিয় আঙ্কারা; ওয়াশিংটন, তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে সেতুবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তান এই সমঝোতার প্রকাশ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে থাকলেও আঙ্কারা নিজের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় পর্দার আড়ালে সক্রিয় ছিল।


মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে তুরস্ক ওয়াশিংটন, তেহরান ও ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করেছে।
গত বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতে সাময়িক বিরতি এলেও মূল বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই যুদ্ধবিরতিতে সহায়তার জন্য তুরস্কসহ চীন, মিসর, কাতার ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে তুরস্কের ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত এক মাসে মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৫০ বারের বেশি ফোনে কথা বলেছেন। এর মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।


এ ছাড়া, তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এমআইটি) সরাসরি পশ্চিমা দেশ ও ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান সহজ করেছে। এর লক্ষ্য ছিল ভুল বোঝাবুঝি কমিয়ে আনা এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তুরস্ক এমন একটি বিরল অবস্থানে রয়েছে যেখানে তারা একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, ইরানের আইআরজিসি এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম। যদিও রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন রয়েছে, তবুও গোয়েন্দা পর্যায়ের যোগাযোগ এখনও সক্রিয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের এই ‘গোয়েন্দা কূটনীতি’ এখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আলি বুরাক দাউরিলি বলেন, এই কৌশল বর্তমানে আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতিতে তুরস্কের আগ্রহের পেছনে কুর্দি ইস্যুও একটি বড় কারণ। তুরস্ক চায় না যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করুক। কারণ, এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আঙ্কারার আশঙ্কা।
এমআইটি প্রধান ইব্রাহিম কালিনও সতর্ক করে বলেছেন, কুর্দিদের সশস্ত্র করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।


More News
হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব মুদ্রায় টোল আরোপের ঘোষণা ইরানের, অবৈধ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ
বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বললেন হাসনাত, কড়া জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর